প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৪, ২০২৬, ৭:০৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
মাটির মানুষ, জলের আয়না” নীরব মাসুম

“মাটির মানুষ, জলের আয়না”
নীরব মাসুম
বরফকে প্রশ্ন করা হইল—
তুমি এত শীতল কেন?
সে মৃদু হাসিয়া কহিল,
আমার অতীত জল,
আমার ভবিষ্যৎও জল—
তবে অগ্নির ন্যায় উত্তাপ দেখাইব কিরূপে?
আমি তো স্বভাবের বশে স্থির,
নির্লিপ্ততায় আমার পরিচয়;
অভিনয়ের উত্তাপ আমার নাই,
প্রকৃতির নিয়মেই আমি নিশ্চল রয়।
তখন মানুষকে প্রশ্ন করিলাম—
তোমার এত অহংকার কেন?
তোমার অতীত মাটি,
তোমার ভবিষ্যৎও মাটি—
তবু এত দাম্ভিকতা কিসের বশে জাগে মনে?
তুমি ক্ষণিকের অতিথি এ ভুবনে,
তবু চিরস্থায়ী বলিয়া কর অহংকার!
মুঠোভরা ধূলিকণার তরে
কেন এতো দ্বন্দ্ব, এতো হাহাকার?
একবার কি ভাবিয়া দেখিয়াছ—
জীবন কত ক্ষণস্থায়ী?
আজ যাহাকে তুমি অবহেলা কর,
আগামীকাল সে-ই হইবে স্মৃতির পরিচয়।
হায়রে মানুষ!
নিজেকে জানিতে এত বিলম্ব কেন?
অহংকারের প্রাচীর ভাঙিয়া
একবার কি হৃদয়ের দর্পণে দেখিবে আপন সত্ত্বা?
যদি বুঝিতে,
সবাই একই মাটির সৃষ্টি—
তবে অন্যের বেদনাতে
তুমি হাসিতে পারিতে না নিশ্চয়ই।
তখন এ পৃথিবী হইত শান্ত,
মানুষ হইত আরও মানবিক;
ভালোবাসা হইত সহজ ও নির্মল,
জীবন হইত স্বচ্ছ জলের ন্যায়।
অতএব, হে মানুষ—
মাটির উৎস স্মরণ রাখিও,
আর জলের ন্যায় স্বচ্ছ হইয়া
জীবনের আয়নায় নিজেকে চিনিয়া লও।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬