প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ৩:৪৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩, ২০২৬, ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ধলা পাহাড়কে সরিয়ে নেওয়া নয়, নিরাপত্তা জোরদারই হতে পারত কার্যকর সমাধান

ধলা পাহাড়কে সরিয়ে নেওয়া নয়, নিরাপত্তা জোরদারই হতে পারত কার্যকর সমাধান
গোলাম কাজেম সরকারঃ
হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর ঐতিহাসিক দীঘির কুমির "ধলা পাহাড়" একটি মেয়ে শিশুকে আক্রমণ করে পানিতে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক এবং দুঃখজনক। নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাই।
তবে একটি দুর্ঘটনার পর আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। মাথা ব্যথা হলেই যেমন মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়, তেমনি শত বছরের ঐতিহ্যের অংশ একটি কুমিরকে সরিয়ে নেওয়াও একমাত্র সমাধান হতে পারে না।
খান জাহান আলীর দীঘির কুমিরগুলো দীর্ঘদিন ধরে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক সময় দর্শনার্থীদের কুমিরের খুব কাছে গিয়ে খাবার দেওয়া, হাত দিয়ে স্পর্শ করা, আদর করা কিংবা শিশুদের দিয়েও একই কাজ করানো হয়েছে। বন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে এমন আচরণ সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ।
আমার বিশ্বাস, দরবার কর্তৃপক্ষ যদি আগে থেকেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করত, যেমন- কুমিরের চারপাশে শক্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি, নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখার ব্যবস্থা, খাবার দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান নির্ধারণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও মাইকিং,
পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী ও নজরদারি নিশ্চিত করা, তাহলে হয়তো এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
মানুষের জীবন অবশ্যই সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সঙ্গে ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণও জরুরি। তাই "ধলা পাহাড়"কে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি বহুগুণ বৃদ্ধি করে মানুষ ও প্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত ও টেকসই পদক্ষেপ হতে পারত।
(ডাঃ মুস্তাফিজুর রহমান ইরান) নিউজ লেখক
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬