• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
ব্রেকিং নিউজঃ
নিজের প্রতারণা ঢাকতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগে আলোচনায় হরিদাস চন্দ্র দাস জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একসঙ্গে ৩ মৃত কন্যাসন্তানের জন্ম! রানীগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার নবগঠিত কমিটির শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন জগন্নাথপুরে রানীগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার ২৯ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন। কারিগরি  কলেজের সভাপতি হলেন অধ্যক্ষ সেলিম রেজা তালুকদার বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে ফুলবাড়িয়ায় দুই মাদক কারবারি আটক,,, বন্ধ হলো “মানতের গাছ” নিয়ে সব আলোচনা! ধলা পাহাড়কে সরিয়ে নেওয়া নয়, নিরাপত্তা জোরদারই হতে পারত কার্যকর সমাধান পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী  তাওহিদুল হক মুন্সি। শিয়ালের আতঙ্কে কাটছে রাত, হবিবপুর মাঝপাড়ায় আক্রান্ত একাধিক

নিজের প্রতারণা ঢাকতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগে আলোচনায় হরিদাস চন্দ্র দাস

সিরাজুল ইসলাম / ২১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

-পলাশবাড়ীতে রাম মূর্তি বিতর্কে নতুন মোড়;

নিজের প্রতারণা ঢাকতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগে আলোচনায় হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস

(সিরাজুল ইসলাম রতন) গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে:–

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের পাশে ব্যাক্তিগত জায়গায় রাম মন্দির ও বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ৮১ ফিট উচ্চতার রাম মুর্তি নির্মান কেন্দ্র করে দেশ ব্যাপি চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
নিজের প্রতারনা ঢাকতে ও বাংলাদেশ – ভারতের সম্পর্কের টানা পোড়ায় সুযোগ কাজে লাগিয়েছে সম্প্রতির বন্ধন বিনষ্টসহ রাষ্ট্রীয় গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস নামে এক ব্যাক্তি।

বিষয়টি নিয়ে সরেজমিন তথ্যানুসন্ধান করে এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী, বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ও উপজেলা ভুমি অফিস সুত্রে জানাযায়, ১৯৩০ সালে ইং সালের ব্রিটিশ সরকারের শাসনামলে তৎকালীন জমিদার শ্রী শৈলাশ চন্দ্র ও কৈলাশ চন্দ্র দেবতার জন্য ৭৬ শতক ও শস্মান নির্মানের জন্য ২২ শতক জমি দেবতার সম্পত্তি হিসেবে দান পত্র প্রদান করে।
ওই এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা কনক চন্দ্র বলেন
দীর্ঘ প্রায় ৫২ বছর এই জায়গায়টি বিল জলাশয় হিসেবে পরিত্যাক্ত থাকে। ১৯৪৭ সালে পাক ভারত বিভক্তির পর থেকে খোলা আকাশের নিচে
এই জায়গার কালীপুজা,শিবপুজা সহ বিভিন্ন দেব দেবীর পুজা অর্চনা ও আরাধনা করা হয়।

১৯৮৭ সালে একটি ছোট সেমিপাকা ঘড় তৈরি করে ওই এলাকার বিভক্ত দুটি সমাজ। এক সমাজ এক বছর শিব পুজা করতো অপর সমাজ পরের বছর কালীপুজা করতো।

এক সমাজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সুধন চন্দ্র বর্মন সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন বিপিন চন্দ্র, অপর সমাজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন স্বর্গীয় কমলা কান্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন সুবাস চন্দ্র। এভাবেই চলে প্রায় ৩ যুগের ও বেশি সময়।

একই গ্রামের দুটি হিন্দু সমাজের পুজা নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হলে রাষ্ট্র পক্ষ থেকে জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার শুনানি শেষে দেবতার সম্পত্তি প্রমানিত হওয়ায় মধ্যরামচন্দ্রপুর শিব মন্দির ও কালীমন্দিরের অনুকুলে রায় প্রদান করে পুর্জা অর্চনার অনুমতি প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত।

২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর মন্দিরের জায়গায় আধুনিক মন্দির নির্মান করার কথা বলে পৃথক দুটি সামাজের লোকজন নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক করে হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস।

।তার ভালো কাজের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে হিন্দু সম্প্রদায় উল্লেখিত জায়গায় মন্দির আধুনিকায়নের জন্য হরিদাস চন্দ্রকে সভাপতি ও বিপিন চন্দ্রকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

২০২৫ সালের ১ লা মে এই মন্দিরে পুরাতন অবকাঠামোর পরিবর্তন ও বৃক্ষ নিধন করে আধুনিকায়ন করনের লক্ষে কাজ শুরু হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস। প্রথমে তিনি মন্দিরে নাম পাল্টিয়ে নাম করন করেন শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালীমন্দির।

গ্রামের নাম মধ্যরাম চন্দ্রপুর( নয়াপাড়া- পাটনি পাড়া) এর পরিবর্তে (বৃন্দাবনপাড়া) নাম করন করেন।

কে এই হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস:—
পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর ( নয়া পাড়া)গ্রামের বাসিন্দা হত দরিদ্র গোপিনাথ চন্দ্র তরনী দাসের ছেলে হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস। ৫ ভাই ১ বোনের মধ্যে হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস ৪র্থ।
বাবার অভাবের সংসারে লেখাপড়া বেশিদুর না করলে ও হাসবাড়ী এবং মন্ডল পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখা পড়া করেন বলে তার স্কুল জীবনের সহপাঠীরা জানান। এরপর অন্যের শূকরের পাল প্রতিপালন করতেন এবং বাঁশের ডালি কুলা চালুন তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতেন আবার কখনো সামান্য বেতনে শ্যালো ম্যাশিন চালানোর কাজ করতেন বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

হরিদাস চন্দ্রের পিতা ও পরিবার ঋন গ্রস্থ হয়ে পড়লে মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামে তাদের বসতবাড়ির ৯ শতাংশ জমি বিক্রি করেন একই গ্রামের কাজিম উদ্দিনের ছেলে ছামছুল আলম,বাদশা ও হামিদুলের নিকট।

হরিদাসের বড় ভাই, গোবিন্দ চন্দ্র তরনী দাস, গৌরাঙ্গ চন্দ্র তরনী দাস, নিত্য নন্দ তরনী দাস ও হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
তার পিতা গোপিনাথ চন্দ্র, মাতা স্বর্গীয় দুর্গারানী তরনী দাস ও ছোট ভাই আনন্দ চন্দ্র তরনী দাস প্রথম দিকে গুচ্ছ গ্রামে অবস্থান করে।তার মা দুর্গা দাস তরুনী দাসের মৃত্যুর পর ছোট ভাই আনন্দ চন্দ্র তরনী দাস বাবাকে নিয়ে বর্তমানে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বসবাস করছেন।

৫ ভাইয়ের একমাত্র বোন দেবা রানী বৈবাহিক সুত্রে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায় তার স্বামীর বাড়ীতে অবস্থান করছেন বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছেন।

হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের কাগজপত্র জাতীয়তা পর্যালোচনা, এনআইডি,ব্যাংক হিসাব, টিন সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন তথ্যানুসন্ধান করে ৫ টি ঠিকানা পাওয়া যায়।

এসব ঠিকানার মধ্যে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্যরাম চন্দ্র পুর এলাকা,,ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকা,ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া এলাকা,বগুড়ার শিবগঞ্জ এলাকা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শিলিগুড়ি এলাকা।

হরিদাস দাস বেশ কিছু দিন ভারতে অবস্থান করার পর তিনি ২০১০ সালে দেশে ফিরে এসে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় উত্তরায় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। জাতীয় পরিচয় পত্রে তার জম্ন তারিখ ১০ অক্টোবর ১৯৮২ থাকলে ও তিনি তার প্রকৃত জম্ন তারিখ ১০ অক্টোবর ১৯৯২ বলে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের জানান।

এরপর থেকে রাজধানীর উত্তরায় পুরাতন এসি কিনে মেরামত করে বিক্রি করা এমন একটি দোকানে কাজ শুরু করেন।

২০১৮ সালে এক সবজি বিক্রেতার সঙ্গে সাবলেট বাসা ভাড়া নেন। ভাড়া থাকা অবস্থায় সবজি বিক্রেতার মেয়েকে বিয়ে করার জন্য ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হন। এরপর হরিদাস চন্দ্র নিজের নাম বদলে রাখেন তাওহীদ ইসলাম।

তাওহীদ ইসলাম শ্বশুরের পরিচয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় কিছু জমি কেনেন। একটি রিসোর্স তৈরি করেন।

এরপরই প্রচার করতে থাকেন, তিনি তৎকালীন
প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার। এ পরিচয়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং বিত্তশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রস্তাব দিতেন। এলাকার বিত্তশালী লোক এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে তাঁদের লভ্যাংশ প্রদান করা হবে বলে প্রলোভন দেখান।
এ ছাড়া প্রকল্প শুরু হলে তা সমাপ্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে অর্থ এবং উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করতে তাঁদের আশ্বস্ত করতেন। এ ছাড়া এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে এলাকার উন্নতি হবে বলে প্রলুব্ধ করতেন। তাঁর প্রতারণায় প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই চাকরি, বদলি, টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করার জন্য তাঁর সহায়তা চাইতেন।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চাকরিপ্রত্যাশী, পছন্দমতো জায়গায় বদলিপ্রত্যাশী সরকারি চাকরিজীবী, বিভিন্ন ক্রয়–বিক্রয় ও উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করতে থাকেন।

তিনি ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে শতাধিক লোকের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাব ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সুত্র ছাড়াও অনুসন্ধানে ওঠে আসে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামিলীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হরিদাস তার জম্ন ভুমি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ফিরে আসেন।
এরপর ১৯৮৭ সালে নির্মিত মধ্যরামচন্দ্রপুর শিব মন্দির ও কালী মন্দির ভেঙ্গে দিয়ে ২০২৫ সালের ১ লা মে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু করেন।কিছুদিনের মধ্যে তিনি বিশাল কালীমন্দির, গুরুকুলের আশ্রম, সেতু,রিসোর্ট, ম্যাডিকেল কলেজ ৫১ ফিট কৃষ্ণ বিগ্রোহসহ বিশাল এলাকাজুড়ে বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা মন্দির গড়ে তোলেন। মন্দিরের চারপাশজুড়ে বড় বড় দালানকোঠা, খাবার ঘর, থাকার হোটেল নির্মাণ করেন।নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে স্বল্প সময়ের এলাকার গরীব দুঃখি অসহায় মানুষকে সহায়তা, এলাকাবাসী ও নেতাদের বিশেষ উপঢৌকন দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
হরিদাসের অর্থের উৎস্য ও আধিপত্যের নেপথ্যে কারা?
মন্দির এলাকায় অর্ধশত ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে দোকান প্রতি ৩/ থেকে ৮ লক্ষ করে প্রায় কোটি টাকা জামানত গ্রহণ করেছেন বলে ব্যাবসায়ীরা জানান।

পলাশবাড়ী বিশিষ্ট ইট ভাটা ব্যবসায়ী স্বর্গীয় গোপাল চন্দ্রের ছেলের কে দুই বছর মেয়াদি কফি সপ দেয়ার কথা বলে ৮ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন।শর্ত ছিলো ওই
মন্দির এলাকায় আর কোন কফি সপ থাকবেনা।পরে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মন্দির এলাকায় একটি কপি সপ বসালে উভয়ের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।একপর্যায়ে মন্দির এলাকায় বেধরক মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গোপান ও গোগুল চন্দ্রের পরিবারের বেশ কয়েকজন আহত হয়।আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে উভয় পক্ষ কে ডেকে নিয়ে গাইবান্ধার ০৩ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মো নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা কে নিয়ে পলাশবাড়ী থানায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠক চলাকালে হরিদাস পুলিশের লাটি
কেড়ে নিয়ে থানায় মব সৃষ্টি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে।যদি পরে সংসদ সদস্য ও থানার অফিসার ইনচার্জ এর
মাধ্যমে কফি সপের জামানত ফেরত দেয়ার শর্তে বিষয়টি নিস্পতি হয়।
হরিদাসের নেতৃত্বে পলাশবাড়ী উপজেলায় চেঞ্জ অব হিন্দু ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন তৈরি করা হয় । এই সংগঠনের সদস্য হতে ১ হাজার ১ টাকা করে অনুদান গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে এই সংগঠনে প্রায় ৫ হাজারের অধিক সদস্য রয়েছে। এই সংগঠনের সদস্য সংগ্রহের ফি ৫ কোটি টাকা সহ অনুদানের অর্থের কোন হিসাবের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই বলে সনাতন ধর্মাবলম্বী বেশ কয়েকজন নেতা জানান।

হরিদাস এর গ্রেফতার ও দুর্নীতির সব ঘটনা অনুসন্ধান এবং পুর্বের গণমাধ্যমে প্রকাশিত ডিডিও শেয়ার করায় শারদীয় দুর্গাপূজার দশমীর দিনে জনৈক্য সাংবাদিককে থানায় নিয়ে মানষিক নির্যাতন চালায় হরিদাস।

পাশাপাশি সাংবাদিককে গ্রেফতার করা না হলে দুর্গা পুজার প্রতিমা বিসর্জন করবে না মর্মে বেকে বসেন।পরে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের মধ্যস্থতায় রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে ওই সাংবাদিকের শেয়ার করা ভিডিও মুছে দিলে পুলিশ সাংবাদিককে ছেরে দেয় এবং প্রতিমা বিসর্জন দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে নির্ধারিত সময়ে মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।

এরপর পলাশবাড়ী কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের দখল নিয়ে মরিয়া হয়ে ওঠেন হরিদাস একাধারে ৩০ বছরের অধিক সময় দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি ও বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী দীলিপ চন্দ্র সাহাকে মিডিয়া হ্যারেজ করে রাঙ্গামাটি মহাশশ্মান দখল নেয়।ফলে প্রবীন হিন্দুধর্মাবলম্বী নেতাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়।

তবে অর্থের উৎস্য আয় ব্যায়ের সংগতি অসংগতি আছে কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে শুশুিল সমাজ,সনাতনী নেতারা ছাড়া ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।

২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর হরিদাস বাবুর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালীমন্দিরের ৩ টন ওজনের প্রায় ৫১ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণ মুর্তি / বিগ্রহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার ও তার স্ত্রী মতি রোজি কুমার।

এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা সৈয়দ মঈনুল হাসান সাদিকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্দির পরিদর্শন ও উদ্বোধন কালে হাইকমিশনার ৮১ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন বলে হরিদাস চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

ইতোমধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠানের পুর্বে বর্তমান সরকার ও বিরোধী দলীয় নেতাদের পদ চারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা মন্দির এলাকা।প্রতিনিয়ত নেতাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা হয় এই মন্দিরে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গাইবান্ধা ০৩ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মো নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা এমপি তাকে ওই মন্দিরে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রায়ই অংশ গ্রহন করতে দেখা যায়।

বৃহত্তর রাম মুর্তি নির্মান:–
—————————–
১৮ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২ দিন পর পড়েই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসেই বৃহত্তর এই রাম মুর্তি নির্মানের কাজ শুরু করা হয়।
সম্প্রতি ওই মন্দিরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৮১ ফুট উচ্চতায় রাম মুর্তি নির্মান কাজ প্রকল্পটির ৯০ শতাংশ সম্পন্ন করা হয়।সমগ্র মুর্তি নির্মানে ব্যায় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪১ কোটি টাকা এমনটাই জানিয়েছেন মন্দির কমিটির সভাপতি হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস।

রাম মুর্তি নিয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালালে, হেফাজত ইসলামি বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস বাংলাদেশ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশসহ দেশের বড় বড় ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন, ইমাম ওলামা পরিষদসহ নেটিজেনরা বৃহত্তর এই রাম মুর্তি নির্মান বন্ধ ও অপসারনের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম করে।জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর কড়া সমালোচনা করেন।

এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিষয়টির যথাযথ গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রাখার স্বার্থে দফায় দফায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের নেতৃবৃন্দ, ইমাম – পুরোহিত বৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

টান টান উত্তেজনার মধ্যে ১১ জুন ২০২৬ বৃহত্তর রাম মুর্তি নির্মানের অর্থের উৎস,মুর্তি অপসারণ, জমির মালিকানা,প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব, সামাজিক সম্প্রতির বজায় রাখা,ভবিষ্যতে ধর্মীয় স্পর্শ কাতর বিষয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকরী ভুমিকা রাখাসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরের স্মারকলিপি প্রদান,পলাশবাড়ী মডেল মসজিদে এক সংবাদ সম্মেলন করে ইমাম ওলামা পরিষদসহ বেশ কয়েকটি ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন।

একই দিন বিকেলে শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালি মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল চন্দ্র, সাধারণ সম্পাদক বিপিন চন্দ্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি অটুট রাখার স্বার্থে রাম মন্দির ও রাম মুর্তি নির্মান কাজ স্থগিত করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানান।যদি ও উপদেষ্টা শ্যামল চন্দ্র বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন আমি কিছুই অবগত নই।সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে আমাকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করানো হয়েছে।আমি এই বিষয়ে আর কিছু বলতে পারবো না।

এদিকে পুর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী একই ব্যানারে পরদিন ১২ জুন ২০২৬ শুক্রবার বাদজুম্মা পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়ে ইমামা ওলামা পরিষদ পলাশবাড়ী উপজেলা এর পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি জানিয়ে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ওই মানববন্ধন থেকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম প্রদান করা হয়।উল্লেখিত দাবি মানা না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে মানববন্ধন শুরুর আগে থেকে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পলাশবাড়ী উপজেলা শহর, শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকাসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ ৩ টি পয়েন্টে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দায়িত্ব পালন করেন বিজিবি,র‍্যাব, পুলিশ, ডিবি পুলিশ,এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকশ সদস্য। তাদের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বিত ভাবে দায়িত্ব পালন করেন ৩ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট।যদি ওই দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। তবে কোন মুহুর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া আশংঙ্কা করছে সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd